বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৭

কান পাকা (ACUTE OTITIS MEDIA)



                    কান পাকা! কি দুরগনদ্ধ! যার এ সমস্যা আছে ,একমাত্র সেই বোঝে,এর যন্ত্রনা।
কান পাকা রোগ একমাত্র নিজের অসতর্কতার জন্যই হয়।যে কন বয়সে এ রোগ হতে পারে।
বিশেষ করে যাদের নদি কিংবা পুকুরে ডুব দিয়ে গোছল করার অভ্যাস আছে,তাদের কানে পানি ঢুকে এই সমস্যার সৃষ্টি করে।তাছাড়া ডুব দিয়ে গোছল ছাড়াও অসতর্কতার জন্য কানে পানি ঢুকে কিংবা কান খোচাখুচির স্বভাব জনিত কারনেও ইনফেকশনের দ্বারা কান পাকা সমস্যা হতে পারে।

                   সাধারনত মধ্য কর্ণে এ সমস্যা হয়।নানাবিধ কারনে জীবানুর দূষন থেকে এ সমস্যা হয়।
জীবানু সমুহের মধ্যে স্টেফাইলকক্কাস, স্ট্রেপ্টকক্কাস,নিউমোকক্কাস,হেমোফাইলাস, ইনফ্লুয়েঙ্গা প্রধান।এরা মধ্য কর্ণে ক্ষত সৃষ্টি করে কান পাকা রোগের জন্ম দেয়।

লক্ষনঃ
          #আক্রান্ত ব্যক্তির প্রায়ই সর্দিই লেগে থাকে।
          #অনেক সময় কানে কম শোনা যায়।
          #কান দিয়ে পুঁজ পড়তে থাকে।অনেক সময় বিশ্রি গন্ধ হয়।
          #কান পাকালে শরীরে জ্বর থাকতে পারে।
          #শরীর ম্যাজম্যাজ করে।
          #কানে ব্যাথা তীব্র থেকে তীব্রতর হতে পারে।

চিকিৎসাঃ
 ১।শরীরে জ্বর বা ব্যাথা থাকলে PARACITAMOL  জাতীয় ঔষধ খাবে।
যেমন___TAB__ace-500mg,napa-500mg,fast-500mg.
মাত্রা___প্রত্যহ ১+১+১ করে ভরা পেটে ৩/৫ দিন সেব্য।

            or    SYP__napa,ace,fast,xpa
মাত্রা___প্রত্যহ ১/২ চা চামচ করে ২/৩বার সেব্য।জ্বর/ব্যাথা অনুভুত হওয়া পর্যন্ত।

২।ব্যাথা তীব্র থেকে তীব্রতর হলে DICLOFENAC POTASSIUM  জাতীয় ঔষধ ভালো কাজ করে।
যেমন___TAB__kataflam-25/50mg,a-fenac-k-25/50mg.
মাত্রা___প্রত্যহ ১+১+১ করে ভরা পেটে ৩/৫ দিন সেব্য।

৩।কানের মধ্যে পুঁজ হলে CLOXACILLIN জাতীয় ঔষধ ভালো কাজ করে।
যেমন___CAP__a-clox-500mg,fluclox-500mg.
মাত্রা___প্রত্যহ ১+১+১+১ করে ভরা পেটে ৭/১৪ দিন সেব্য। ৬ ঘন্টা পরপর খাওয়া ভালো।

             or    SUSP___a-clox,fluclox,cloxil.
মাত্রা___প্রত্যহ ১/২চা চামচ করে ভরা পেটে ৭/১৪ দিন সেব্য। ৬ ঘন্টা পরপর খাওয়া ভালো।

৪।কানের মধ্যে ব্যাবহারের জন্য CLORAMPHENICOL জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করা যায়।
যেমন___DROP__otophenicol,a-phenicol.
মাত্রা___প্রত্যহ ২/৩ ফোঁটা করে দিনে ২/৩ বার কানের মধ্যে ব্যাবহার করবে।

৫।প্রচুর পরিমান VITAMIN-C খাবে।
যেমন___TAB__ceevit,ascobex,ceecon.
মাত্রা___প্রত্যহ ১+১+১ করে চুষে ৭/১০ দিন সেব্য।

৬।পেটে গ্যাস হলে ESEMOPRAZOL জাতীয় ঔষধ ভালো কাজ করে।
যেমন___TAB__nexam-20/40mg,esotid-20/40mg.
মাত্রা___প্রত্যহ ১+১+১ করতে আহারের ২০মিনিট আগে,ব্যাথার ঔষধ চলাকালীন পর্যন্ত সেব্য।


পথ্যঃ
         # ঠান্ডা লাগতে দিবে না।
         #সবরকম খাবার খাওয়া যাবে।
         # খালি পায়ে চলাচল না করায় ভাল।
         # নিয়মিত কান পরিস্কার রাখার চেস্টা করবে।


খেয়াল রাখতে হবে যে,কানের মধ্যভাগ ফাঁকা স্থানের মত।এর শেষপ্রান্তে হালকা পর্দা থাকে,যার জন্য আমরা শ্রবন শক্তি অনুভব করি।
সুতরাং কানের প্রতি যত্নশীল হতে হবে।অবস্থার উন্নতি না হলে দ্রুত নিকিটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাবে।

বুধবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৭

নাস্যাল পলিপ (NASAL POLYP)


                             নাক শরীরের অতিমুল্যবান একটি অংগ।নাক আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে এবং কোন কিছুর গন্ধ বুঝতে সাহায্য করে ।নাকের দুই পাশে দুটি ছিদ্র যুক্ত কক্ষ থাকে।নাকের দুই কক্ষের মাঝের দেয়ালের নাম নাস্যাল সেপ্টাম।
যখন নাকের দু পাশের দেয়ালের মিউকাস মেমব্রেন গুলো ফুলে ওঠে,তখন এটিকে অনেকটা কাঁঠালের মুচির মত দেখায়।এই ফোলা মুচির মত মেমব্রেন এর মাঝে একরকম তরল পদার্থ জমে নাস্যাল পলিপের সৃষ্টি করে।
এই পলিপ একত্রে বেশ কয়েকটি হতে পারে।তখন এটিকে আঙ্গুরের থোকার মত দেখায়।এই পলিপ প্রায় আলগা মাংস পিন্ডের মত লাল বর্ণের হয়।
সাধারন অবস্থায় পলিপ চেনা খুবই কস্টসাধ্য।একমাত্র চিকিৎসকরাই এটা ধরতে পারেন।

কারনঃ
          #বাইরে থাকে শক্ত কিছু ঢুকে আটকে থাকলে,এর ফলে সৃষ্ট ক্ষত থেকে পলিপ হতে পারে।
          #নাকের সেপ্টামে ফোঁড়া হলে পলিপ হতে পারে।
          #নাকের সেপ্টামে মাংসবৃদ্ধি পেলে এমনটি হতে পারে।
          #নাকের মধ্যে টিউমার জনিত কারনে এমনটি হতে পারে।
          #সাইনুসাইটিস এর প্রভাবেও এমনটি হতে পারে।
          #যারা বেশি নাকের মধ্যে খোঁচাখুঁচি করেন,তাদের ইনফেকশন এর দ্বারা এমনটি হতে পারে।

লক্ষনঃ
         #নাকের উপোরিভাগ প্রায়ই লাল বর্ণ ধারন করে।
         #প্রায়ই নাক বন্ধ হয়ে যা।বিশেষ করে রাতের বেলায় কিংবা হালকা ঠান্ডার প্রভাবে।
         #শ্বাস প্রশ্বাসে কস্ট হয়।
         #নাকের মধ্যে শিরশির করে,মনে হয় নাকের ভেতর কিছু আটকে আছে।
         #নাক ভারী বোধ হয় ও চুলকায়।
         #শরীরের জ্বর থাকতে পারে।
         #নাকে ব্যাথা হতে পারে।

***নাকের মধ্যে টিউমার বা পলিপ উচ্চপর্যায়ের চিকিৎসা।এ চিকিৎসার জন্য একজন ভালো বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন।  অপারেশন/অস্ত্রপাচার দরকার হলে,করিয়ে ফেলা উচিৎ।এবং ঠিকমত ঔষধ চালাতে হবে।আর রোগের শুরুতেই চিকিৎসা করাতে হবে।***

আমি নিচে নাস্যাল পলিপের সাধারন লক্ষন প্রকাশ পেলে যে চিকিৎসার দরকার,তা প্রকাশ করছি______

চিকিৎসাঃ
১।শরীরে জ্বর কিংবা ব্যাথা হলে PARACITAMOL জাতীয় ঔষধ খাওয়া যায়।
যেমন___TAB__fast-500mg,napa-500mg,ace-500mg.
মাত্রা___প্রত্যহ ১+১+১ করে আহারের পর ৩/৫ দিন সেব্য।

২।পলিপের সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য AZITHROMYCIN  জাতীয় ঔষোধ ভালো কাজ করে।
যেমন___TAB__zimax-250/500mg,azin-250/500mg.
মাত্রা___প্রত্যহ ০+০+১ করে আহারের ২০মিনিট আগে ৫দিন সেব্য।বয়সভেদে মাত্রার তারতম্য হবে।

৩।নাকের ভেতর চুলকালে নাক বন্ধ করতে   CETRIZINE HCL জাতীয় ঔষধ খাওয়া যায়।
যেমন___TAB__alatrol,cetizin,atrizen.
মাত্রা___প্রত্যহ ১+0+১ করে আহারের পর ৩/৫ দিন সেব্য।

৪।সর্দি জনিত কারনে নাকবন্ধ হলে  XYLOMETAZOLINE  জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।
যেমন___DROP__antazol-0.05/1.0%
ব্যবহার__অপ্রাপ্ত বয়স্ক 0.05% এবং প্রাপ্ত বয়স্ক 1.0% অনুসারে ১/২ ফোঁটা করে দিনে ৩/৪ বার নাকের ছিদ্র পথে টানতে হবে।

বর্তমানে কিছু হাতুড়ে ডাক্তাররা নাকের পলিপ ঠিকমত না চিনেই,একটু লক্ষন প্রকাশ পাওয়া মাত্রই নাকের মধ্যে একপ্রকার এসিড জাতীয় ঔষধ প্রবেশ করিয়া, বৃদ্ধি পাওয়া মাংস পুড়িয়ে দেয়।যা সম্পূর্ণ ভুল চিকিৎসা পদ্ধতি।এর জন্য অনেক সময় রোগটি জটিল হয়ে যেতে পারে।এমনকি নাকের সেপ্টামে ইনফেকশন হয়ে অনেক জটিল অবস্থার সম্মুখিন হতে হয়।এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
এ রোগের চিকিৎসা জন্য একজন ভাল বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়ায় বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

পথ্যঃ
        #এ রোগে আক্রান্ত হলে বেশি ঠাণ্ডায় চলাফেরা করবে না।
        #নাকে ধুলাবালুর প্রবেশ ঠেকাতে, ডাস্ট মাস্ক ব্যবহার করবে।
        #নাকে আঙ্গুল ঢুকিয়ে খুচাখুচি করার অভ্যাস পরিহার করতে হবে।

নাস্যাল পলিপ কোন স্বাভাবিক ব্যাধি নয়।এটি নিয়ে গাফলতি করলে, পরবর্তীতে নাকে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।তাই পলিপের কোন লক্ষন প্রাকাশ পেলেই দ্রুত ভালো চিকিৎসকের তত্বাবধানে চিকিৎসা করাতে হবে।

সোমবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৭

শিশুর খিঁচুনি জ্বর (FEBRAIL CONVALTION)


              শিশুর খিঁচুনি জ্বর,কোন সাধারন জ্বর নয়।এর সঠিক কারন খুজে চিকিৎসা না করাতে পারলে,পরিনাম হতে পারে ভয়াবহ।

              সাধারনত ৬মাস থেকে ৬বছর বয়সের শিশুর জ্বর ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট হলেই অনেক সময় খিঁচুনি শুরু হয়।এটা ভাবব্রাইল কনভালশন নামে পরিচিত।
সব ক্ষেত্রে খিঁচুনি বা কনভালশনের কারন খুজে পাওয়া যায় না।তবে কিছু কিছু কারনে জ্বরের মাত্রা তীব্র হলে কনভালশেন শুরু হয়।এসব রোগের মধ্যে,তীব্র কাশি,নিউমনিয়া,ডায়রিয়া,প্রসাবের নালিতে ইনফেকশন অন্যতম।

করণীয়ঃ
              যেসব শিশুদের কনভালশন হয়,তাদের জ্বরের শুরুতেই প্যারাসিটামল সিরাপ খাওয়াতে হবে,যা বয়স ও ওজন অনুযায়ী মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।
বাজেরে প্যারাসিটামল সিরাপ>এইস,নাপা,এক্সপা,ফাস্ট প্রভৃতি নামে পাওয়া যায়।
প্যারাসিটামল খাওয়ানোর পর,ডায়াজিপাম গ্রুপের ঔষধ,যেমন>সেডিল ট্যাবলেট এর অর্ধেক বা পরিমানমত গুড়া করে পানিতে গুলিয়ে খাওয়ানো যায়।
দুই দিনের মধ্যে জ্বরের কোন প্রকার উন্নতি না হলে,দ্রুত কোন শিশু চিকিৎসকের নিকট নিতে হবে।

             কোন শিশুর প্রথমবার কনভালশন হবে,তা আগে থেকে কোনভাবেই বলা সম্ভব নয়।কাজেই প্রথম কনভালশন দেখা দেওয়া মাত্রই ডাক্তারের কাছে নিতে হবে।সঠিক পরীক্ষা নীরিক্ষার মাধ্যমে কনভালশনের আসল কারন খুজে চিকিৎসা দিতে হবে।

ঝুঁকিপূর্ণ শিশুঃ
                      যেসব শিশু ১বছর বয়সের আগেই কনভালশন শুরু হয়,সে সব শিশু খুবই ঝুকিতে থাকে।যদি মা বাবার কারোও কনভালশন সমস্যা থাকে,তহলে ১বছরের নিচের শিশুদের এ রোগ হবার স্মভাবনার হার অনেক বেশি।
                      যদি শিশুর কনভালশন ১৫মিনিটের এর বেশি হয়,কিংবা ঘন ঘন হয়,সেসব শিশু বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে।

সতর্কতাঃ
              কনভালশন নিয়ন্ত্রন করা না গেলে,শিশুর ব্রেন ক্ষতিগ্রস্থ হয়।ফলে শিশুর মানসিক বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়।এতে শরীরের যে কোন অংশ প্যারালাইসড হতে পারে।
মৃগী বা এপিলেপ্সি বা সারা জীবনের কনভালশন সমস্যা থেকে যেতে পারে।
সুতরাং শিশুর জ্বরের সাথে খিঁচুনি থাকলে,মোটেও সাধারন ব্যাপার ভেবে সময় নস্ট করবে না।দ্রুত একজন শিশু ডাক্তারের শরণাপন্ন হবে।

শেষ কথাঃ
                ফেব্রাইল কনভালশন জ্বরের সাথে সম্পর্কযুক্ত।তাই জ্বরকে অবহেলা না করে সঠিক সময় সঠিক নিয়মে ঔষধ সেবন করতে হবে।এ রোগের যথাযথ চিকিৎসা করালে শিশুর কোন প্রাকার ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে না।

                                                                                                     

কোমল পানীয় পান ক্যান্সারের কারন।



                   কোমল পানীয়,আমাদের মাঝে কার অপছন্দের?
আমরা সবাই, এক অদ্ভুদ তৃষ্ণা নিয়ে এটা পান করি।এ যেন স্বারাব পানের মত ব্যাপার।এটা পানের জন্য আমাদের মস্তিস্কে আস্বাভাবিক এক নেশা ছড়িয়ে দেয়।
যদিও এটা কোন মাদক নয়।কিন্তু এর ভয়াবহতা মাদকের চেয়েও কম নয়।

                  বর্তমানে অনেকে আবার এটাকে রুটিনমাফিক প্রতিদিন ১/২ টা করে পান করে থাকেন।যারা এই কোমল পানীয় প্রত্যহ পান করছেন,তাদের সতর্ক হওয়া জরুরী।কেননা এই কোমল পানীয় আসলেই কোমল কিনা,তা নিয়ে বিস্তর গবেষনা হয়েছে বা এখনও হচ্ছে।

                 সম্প্রতি সুইডিশ বিজ্ঞানীরা বলেছেন,কোমল পানীয় আসলে কোমল নয়।প্রতিদিন একটি কোমল পানীয় পানে মূত্রথপলিতে ক্যান্সারের ঝুকি প্রায় ৪০শতাংশ বৃদ্ধি পায়।১৫বছর ধরে গবেষনার পর বিজ্ঞানীরা বলেন,যারা প্রতিদিন ৩০০মিলিলিটার কোমল পানিয় পান করেন,অন্য মানুষের চেয়ে তাদের মুত্রথলিতে ক্যান্সার হওয়ার আশংকা ৪০শতাংশ বেশি।তারা প্রায় ৪৫-৭৬বছর বয়সি ৮হাজার সুস্থ্য মানুষের উপর ১৫বছর ধরে গবেষনা চালান।

                  পরীক্ষা চলাকালীন সময় তাদের খাদ্যাভ্যাস পর্যবেক্ষণ করা হয়।গবেষনা শেষে যাদের মূত্রথলিতে ক্যান্সার হয়েছে তাদের খাদ্যাভাসের সংগে সুস্থ্য মানুষের খাদ্যাভ্যাস মিলিয়ে দেখেন।
এতে দেখা গেছে,যারা কোমল পানীয় পান করেননি,তাদের চেয়ে যারা কমল পানীয় পান করেছেন তাদের মূত্রথলিতে ক্যান্সারের হওয়ার হার ৪০শতাংশ বেশি।
এই গবেষনায় প্রাপ্ত ফল প্রকাশের পর,তারা এও বলেন,কোমল পানীয় পানের সঙ্গে মূত্রথলির ক্যান্সারের কি সম্পর্ক রয়েছে,এ বিষয়ে আরও গবেষনা প্রয়োজন।

                  গবেষনায় মূত্রথলির ক্যান্সারের সঙ্গে জুস,ডায়েট ড্রিঙ্কস,চা এবং কফির কোন সম্পর্ক খুজে পাননি বিজ্ঞানীরা।শুধুমাত্র কোমল পানীয়র সম্পর্কই পাওয়া গেছে।

                 সুতরাং এ কথা বলা যায় যে,যারা নিয়মিত কোমল পানীয় পানে বেশি আসক্ত,তারা আজ থেকেই সাবধান হয়ে যান।আমাদের বাজারে বিভিন্ন নামে কোমল পানীয় পাওয়া যায়।
তাই নিজের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে চাইলে,আজ থেকেই কমল পানীয়কে দূরে ঠেলুন।

                                                                                                  সূত্র>>>>হেলথ ডেস্ক।

রবিবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৭

বাতজ্বর (RHEUMATIC FEVER)



             বাতজ্বর,আমাদের দেশে মুটামুটি পরিচিত রোগ।
সাধারনত স্ট্রেপ্টোকক্কাস বিশেষ প্রজাতি বা স্ট্রেপ্টকক্কাস হেমোলাইটিকাস এর সংক্রমনের জন্য ৫-১৫বছরের ছেলেমেয়েদের গলাব্যাথা হয়।যার ফলশ্রুতিতে বাতজ্বর হবার সম্ভাবনা থাকে।
            এ রোগের প্রধান লক্ষন যেমন,বড় বড় গিরা বা হাটু,পায়ের গিরা,হাতের কুনুই,কিংবা হাতের কব্জি ফুলে ব্যাথা হলে এবং তাঁর সাথে জ্বর থাকলে সাধারনত আমরা বাতজ্বর বুঝি।
           স্ট্রেপ্টকক্কাসের এন্টিজেন শরীরের বিভিন্ন কোষ কলা বিশেষ করে হৃদপিণ্ডের ভাল্বের গ্লাইকোপ্রটিনের সাথে বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়ার ফলে বাতজ্বরের সৃষ্টি হয়,এর সাথে সাথে হৃদপিণ্ডের ভাল্ব নস্ট হতে পারে।
           তাই কখনও এই রোগের লক্ষন প্রকাশ পেলে, দ্রুত ডাক্তারের কাছে যেয়ে যাবতীয় পরীক্ষা নীরীক্ষার মাধ্যমে বাতজ্বরের ব্যপারে নিশ্চিত হতে হবে।
          পুস্টির অভাব,অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এ রোগ বেশি দেখা যায়।এ রোগ হবার নির্দিষ্ট কোন দিন বা মাস নেই,যে কোন ঋতুতেই এ রোগ হতে পারে।সাধারনত বর্ষা বা শিতকালে এ রোগের প্রকোপ দেখা দেয়।এ রোগ একটি পরিবারের ভিন্ন ভিন্ন সদস্যের হতে পারে আবার একা একজনেরও হতে পারে।

লক্ষনঃ
           #শরীরে জ্বর থাকে,এবং দীর্ঘ দিন যাবত জ্বর লেগেই থাকে।
           #গলার ভেতরের দিকে ব্যাথা হয়।ঢোক গিলতে অসুবিধা হয়।
           #হাত পায়ের আঙ্গুল বা অস্থিসন্ধিতে ব্যাথা হয়,আবার কখনও ফুলে যাতে পারে।
           #কখনও কখনও বুকের বাম পাশে বা বাম স্তনের নিচে চাপা ব্যাথা অনুভুত হতে পারে।
           #হাত বা পায়ের কোন একটা জয়েন্ট এর ব্যাথা ও ফোলা কমলেও আবার অন্যটি আক্রান্ত হতে               পারে।
          #শরীরে ব্যাথা থাকতে পারে।
          #রোগী শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করে।
          #জিহ্বা কালচে বর্ণের দেখায়।
          #শ্বাস-প্রশ্বাসে কস্ট হয় বা বুক ধড়ফর করে।

রোগ নির্ণয়ঃ
                 শুধুমাত্র লক্ষনের উপর ভিত্তি করেই বাতজ্বর রোগের উপস্থিতি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায় না।এর জন্য যথেস্ট পরীক্ষা-নীরীক্ষার প্রয়োজন আছে।এজন্য একজন ভালো বিশেষজ্ঞের তত্বাবধানে রোগীর চিকিৎসা করাতে হবে।
              মনে রাখবে,এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি অল্পদিনে পুরোপুরি আরোগ্য হতে পারে না।এজন্য পূরন মেয়াদে ঔষধ সেবন করতে হয়।

বাতজ্বরের উপস্থিতির ব্যাপারে নিশ্চিত হবার পর,নিম্নের চিকিৎসা বা ব্যবস্থাপত্র অনুসরন করা যেতে পারে।

চিকিৎসাঃ
১।শরীরের জ্বর বা ব্যাথা কিংবা ফোলা কমানোর জন্য SALICYLET জাতীয় ঔষধ খাওয়া যায়।
যেমন___TAB_ecosprin-75/300mg,aspin-75mg
মাত্রা___প্রত্যহ ১+১+১করে বেশ কিছুদিন ধরে রাখতে হবে,তবে প্রয়োজন অনুযায় মাত্রা বাড়ানো বা কমানো যাবে। বয়সভেদে মাত্রা তারতম্য হবে।

২।এর সাথে PENICILLIN জাতীয় ঔষধ,
                     INJECTION__benzapen-12lac/6lac.

মাত্রা___চিকিৎসার শুরু থেকে প্রত্যহ ১বার ১০/১২ লাখ ইউনিট গভির মাংসপেশীতে ইনজেক্ট করতে হবে,প্রায় ১/২ সপ্তাহ।

৪।ইনজেকশন ব্যাবহার শেষ হলে, PENICILLIN জাতীয় ঔষধ
                                         TAB__oracyn-K-250mg,penvik-250mg  খেতে হয়।
মাত্রা___প্রত্যহ ১+০+১করে এক নাগাড়ে ৪/৫বছর ধরে রাখতে হবে,তবে ৪/৫ দিন করে মাঝে গ্যাপ দেওয়া অনুচিত হবে।

৫।বুকে ব্যাথা থাকলে স্টেরয়েড PREDNISOLUN জাতীয় ঔষধ খাওয়া যায়।
যেমন___TAB_deltason-5mg,deltapred-5mg.
মাত্রা___প্রত্যহ ১+০+১ করে  বেশ কিছুদিন ধরে রাখতে হবে।তবে ঔষধ একবারে ছেড়ে দেয়া ঠিক  হবে না।এরজন্য ক্রমে ক্রমে মাত্রা কমিয়ে বাদ দেওয়া যেতে পারে।

৬।পেটে গ্যাস থাকলে RANITIDINE জাতীয় ঔষধ ভালো কাজ করে।
যেমন___TAB_neotack-150,ranidin-150mg.
মাত্রা___প্রত্যহ ১+০+১করে আহারের ২০মিনিট আগে সেব্য।ব্যাথার ঔষধ চলাকালীন পর্যন্ত।

পথ্যঃ
         #পূর্ণ বিশ্রাম নিবে।
         #স্বাভাবিক পুস্টিকর খাবার খাবে।
         #ভারী কোন কাজ বা শরীরের চাপ সৃষ্টি করে এমন কোন কাজ হতে দূরে থাকবে।

মনে রাখবে,এ রোগের জন্য ঔষধ পূর্ণ মেয়াদে সেবন না করলে বারবার শরীর রোগাক্রান্ত হবে।
সুতরাং লক্ষন দেখা মাত্রই বাতজ্বর সম্পর্কে নিশ্চিত হবার জন্য,দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসা কেন্দ্রে যাবে।

অসুস্থতায় রয়েছে সৃষ্টিকর্তার প্রভুত কল্যান।


               শারীরিক সুস্থ্যতা সৃষ্টিকর্তার এক বৃহৎ নেয়ামত।মানুষ মাত্রই সুস্থ্য থাকতে চাই। সবল বা যৌবনদীপ্ত থাকতে ভালোবাসে।সুস্থাতার জীবনতরী চালাতে চায়।কেউ অসুস্থ্য হতে চায় না।শরীরের রোগব্যধি বা কোন প্রকার ক্ষত পছন্দ করে না। মুমূরষ হতে না হতেই হা-হুতাশ আরম্ভ করে দেয়।অনেকে আবার আক্ষেপের সাথে নানা রকম মন্দ কথা বলা শুরু করে দেয়,যা একদমই অনুচিত।

             সুস্থ্যতা যেমন আল্লাহর নেয়ামত,তেমনি অসুস্থ্যতাও আল্লাহর নেয়ামত।আল্লাহ যাকে পছন্দ করেন,তাকেই রোগ ব্যাধি বা কস্ট দুঃখ দেন।রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছেন অনেক নবি-রাসুল ,সাহাবি,বুজুরগ ও আল্লাহর ভালোবাসার ব্যক্তিরা।
বিশেষ করে আইয়ুব (আঃ) এর কথা উল্লেখযোগ্য।

              সৃষ্টি জগতে আল্লাহর সবচেয়ে বেশি পছন্দের,হলে মহানবী (সাঃ)।তিনি আল্লাহর বন্ধু।আল্লাহ তায়ালা তাকেও রোগ ব্যধি দিয়েছেন।কস্টে ফেলেছেন।আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত,_- আমি রাসুল (সাঃ) এর চেয়ে আর কাউকে বেশি রোগ যন্ত্রনা ভোগ করতে দেখিনি।_-(বোখারিঃ৫৬৪৬)

              অসুস্থ্যতা প্রভুর দয়া। তাঁর পক্ষ হতে বান্দার উপর প্রদত্ত রহমত।তিনি বান্দার কল্যানারথে,অসুস্থ্য করেন।বান্দার ভরপুর কামিয়াবি দান করতে ব্যধিগ্রস্থ করেন।অসুস্থ্যতা হা-হুতাশ বা নিরাশের বিষয় নয়।অসুস্থ্যতা শুকরিয়া আদায়ের জায়গা।
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত _-রাসুল (সাঃ) বলেন,আল্লাহ যে ব্যক্তির কল্যান কামোনা করেন,তিনি তাকে দুঃখ কস্টে পতিত করেন।_-(বোখারিঃ৫৬৪৫)

              মানুষ বিভিন্ন পাপাচারে লিপ্ত হয়ে গোনাহ করে।গোনাহ করা মানুষের স্বভাব।গোনাহ বা পাপ করলে আল্লাহ নারায হন।যার দরুন পরকালে অশান্তিতে থাকতে হয়।
অসুস্থ্যতা গোনাহ মাপের সহায়ক।অসুস্থ্য থাকলে পাপ মাফ হয়।কলব পরিস্কার হয়,পাপ ক্ষয় হয়।
নবী (সাঃ) এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত --রাসুল (সাঃ) বলেন,মুসলিম ব্যাক্তির উপর যে সব বিপদ-আপদ আসে,এর দ্বারা অল্লাহ বান্দার পাপ মচন করেন,এমনকি যে কাটা তাঁর শরীরে ফুটে,তার থেকেও পাপ মোচন হয়।_-(বোখারিঃ৫৬৪০)

               আল্লাহ সুমহান,অতি দয়ালু।বান্দার শরীরের বিন্দু কাটার আঘাতেও আল্লাহ গোনাহ মাফ করেন।অসুস্থ্যতায় পাপ ক্ষয় হয়,গোনাহ দূর হয়,এটা চিরন্তন সত্য।
রোগ ব্যধি,দুঃখ কস্টের দ্বারা বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।প্রভুর নৈকট্য অর্জন হয়।
পাতা যেমন ঝরে বৃক্ষ থেকে,অসুস্থ্য বান্দার গোনাহ সে ভাবে ঝরে যায়।বান্দা তখন পাক পবিত্র হয়ে যায়।

                 অসুস্থ্যতা,হতাশা বা দুরাশার কারন নয়।অসুস্থ্যতা গোনাহ কে গাছের পাতার মত ঝরিয়ে দেয়।আব্দুল্লাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন_-আমি নবী (সাঃ) এর অসুস্থ্য অবস্থায় তাঁর কাছে গেলাম,ওই সময় তিনি অনেক জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন।আমি বললাম,নিশ্চয় আপনি ভীষন জ্বরে আক্রান্ত,আমি এও বললাম যে,আপনার জন্য দ্বিগুন সওয়াব।তিনি বললেন,হ্যা।যে কেউ  রোগাক্রান্ত হয় তা থেকে গোনাহ গুলো এভাবে ঝরে যায়,যে ভাবে গাছ থেকে পাতাগুল ঝরে যায়।_- (বোখারিঃ৫৬৪৭)।

                  তাই,আমাদের উচিৎ,আমরা কোনা রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে,হা-হুতাশ না করে আল্লাহর কাছে রোগ মুক্তির জন্য প্রার্থনা করা।কেননা আল্লাহ রোগ দিয়েছেন আবার রোগের শেফাও দিয়েছেন।

                                                                       >>>সংগ্রহ।

ঝুকিমুক্ত বাবা হতে চাইলে,করনীয়......


                    স্ত্রীদের মা হওয়া কিংবা পুরুষের বাবা হওয়া,একটা চিরায়িত আকাংখা।আর সন্তান জন্মদান,পুরুষ কিংবা স্ত্রী লোকের সক্ষমতার পরিচয়ক।
আগে ধারনা করা হত,শুধুমাত্র বেশি বয়সে মা হলে সন্তানের নানা রকম শারীরিক সমস্যা হতে পারে,কিন্ত গবেষনায় বেরিয়ে এসেছে,শুধু মা নয় বরং বেশি বয়সে বাবা হলেও এর প্রভাব সন্তানের উপর পড়ে।

                    বিয়ের পর যারা সন্তান নিচ্ছেন না তাদের জেনে রাখা ভালো যে,বেশি বয়সের বাবা হয়ার অনেক ঝুকি আছে।কেননা বাবার বয়স সন্তানের বংশগত  জটিলতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
শিশুর স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে,মায়ের চেয়ে বাবার বয়সই প্রভাবক হয়ে কাজ করে।অসুস্থ্য,আস্বাভাবিক সন্তান জন্ম হলে বেশিরভাগ সমাজ ব্যবস্থা মায়েদেরই দোষ দিয়ে থাকে।কিন্তু সম্প্রতি গবেষনায় দেখা যায় যে,অটিজম,সিজোফ্রানিয়া কিংবা মানসিক ও শারীরিক বিকলাঙ্গতা নিয়ে যে সব শিশু জন্ম নিচ্ছে এর একটি প্রধান কারন বেশি বয়সে বাবা হওয়া।
অর্থাৎ বাবা হিসেবে বেশি বয়সে সন্তান জন্ম দিতে চাইলে,আগত শিশুর মানসিক ও শারীরিক জটলতা থাকার সম্ভাবনার ঝুকি বহু গুন বেড়ে যায়।

                       গবেষনায় দেখা যায়,২০বছরের বেশি বয়সের বাবার সন্তানদের ২৫টির মত জটিলতার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।সেখানে ৪০বছর বয়সের বাবার সন্তান্দের সে সম্ভাবনা ৬৫টি জটিলতার।
অর্থাৎ বাবার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুর জটিলতার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

                         মোট কথা,শিশুদের শারীরিক ও মানসিক জটলতার ৯৭ ভাগ কারন বেশি বয়সে বাবা হওয়া বা সন্তান জন্ম দেওয়া।
গবেষনায় আরও দেখা যায় যে,১৯৭০ সাল থেকে উন্নত দেশগুলোতে শিল্পবিপ্লব শুরু হয়েছে,আর এ শিল্প বিপ্লবের কারনে পুরুষেরা বেশি বয়সে বাবা হচ্ছে,আর এতে উন্নত বিশ্বে অটিজম ও অন্যন্ন মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধি শিশুর জন্ম নেওয়ার হারও বেড়ে গেছে।

                          তাই বলা যায়,সুস্থ্য স্বাভাবিক শিশু জন্ম দিতে চাইলে অন্তত প্রথম সন্তানটি ৩০-৩৫বছরের মধ্যে জন্ম দিন নতুবা বাবা হিসেবে আপনাকে ঝুকির মধ্যে থেকে একটা অজানা শঙ্কায় থাকতেই হবে।
একারনে ঝুকিমুক্ত বাবা হতে আপনাকে কিন্তু ভাবতেই হবে।

                                                                                    সুত্র>>> হেলথ ডেস্ক।

ভিটামিন ই/VITAMIN E

প্রাথমিক ধারনাঃ ভিটামিন ই ট্যাবলেটে আছে সিনথেটিক ভিটামিন ই। এর সম্পূর্ণ কার্যকারিতা এখনও অজানা।তবে একথা প্রমানিত যে,ভিটামিন ই এন্টিঅক্সিড...