বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

ধ্বজভঙ্গ বা পুরুষত্বহীনতা ( IMPOTENCY)


                         একটা নারী তার রক্তের সম্পর্ক,আপনজন ছেড়ে,এক ভিন্ন, অপরিচিত পুরুষের বাহু বন্ধনে আবদ্ধ হয়।তারপর ধীরেধীরে ভালোলাগা-ভালোবাসা,আর তারপর একে অন্যকে ছাড়া যেন অস্তিত্ব বিলীন।
এ কোন টান বা মায়া?
মহান সৃষ্টিকর্তার অন্যতম আশীর্বাদ হচ্ছে সেক্স। এই সেক্সকে মাধ্যম বানিয়ে সৃষ্টিকর্তা প্রানী জগতকে হাজার লক্ষ কোটি বছর ধরে টিকিয়ে রেখেছেন।
সৃষ্টিকর্তার সমস্ত সৃষ্টর মাঝে সেরা হল মানবজাতি।আর তিনি এই জাতি কুলের ধারা অব্যহত রেখেছেন,একজন নারী-পুরুষের মধ্যে সেক্স এর ফলস্বরূপ সন্তান জন্মদান করিয়ে।
আর এই সেক্স এর সক্ষমতাই পুরুষের মূল হাতিয়ার।আর এই ক্ষমতা না থাকলে,পুরুষকে সমাজে নানা অপমান অপদস্ত এর সাথে সাথে নিজের বংশ রক্ষা করাও যায় না।নিজেকেই বংশের শেষ মানতে বা ফুলস্টপ করতে হয়।

আমাদের দেশে ইম্পোটেন্স বা ধ্বজভঙ্গ রোগীর সংখ্যা কম নয়,যারা পুরুষত্বহীনতায় ভুগছেন।অথচ লজ্জায় নিজের চিকিৎসা করাতে পারছেন না।
আমি এই পুরুষত্বহীনতা নিয়েই আলোচনা করব...............

প্রতিটি পুরুষ তার দেহের হরমন এবং শুক্রক্ষয়জনিত কারনে যৌন উত্তেজনা অনুভব করে।এই উত্তেজনা নির্ভর করে সেক্স এর স্থায়িত্বের উপর।যেমন,কম বা বেশি।
সেক্স এর স্থায়িত্ব কম হলেই যে ইম্পোটেন্স বা ধ্বজভঙ্গ রোগ আছে,তা কিন্তু নয়।
আবার কারো লিঙ্গ ছোট হলেই যে ইম্পটেন্স হয়েছে,তাও না।
আসলে এই সেক্স বিষয়টা,অনেকটা মানসিক কারনের প্রভাবে হয়ে থাকে।
তাছাড়া লিঙ্গ ছোট কিংবা বড়,এটা নির্ভর করে বংশগত প্রভাবে।

যৌনতার প্রভাবে অনেক তরুন অল্প বয়স থেকেই হস্তমৈথুন করে থাকে,আসলে এটি একটি বিকৃত মানসিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
অনেকে আবার,সংগদোষে কু জায়গা গিয়ে নানাবিধ যৌন রোগের শিকার হচ্ছে।

সঠিক পুস্টিকর খাবারের অভাব কিংবা মানসিক হতাশায় ভোগার কারনে পুরুষের লিঙ্গের উত্থান জনিত সমস্যা হয়।

সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ সারানো যায়।যদি কেই জন্মগত ভাবে যৌনতায় অক্ষম হলে সারানো খুবই কস্টসাধ্য ব্যাপার।

লক্ষনঃ ধ্বজভঙ্গের লক্ষনকে তিন ভাগে ভাগ করে নিচে দেওয়া হল........................

#জন্মগত লক্ষনঃ-
                    *শিশুকাল থেকেই মেয়েলী ভাব দেখা দিতে পারে।
                    *যৌবনে পদার্পণের পরেও নারীসুলভ আচরন করে।
                    *শারিরীক দুর্বলতা ও হীনমন্যতায় ভোগে।
                    *মেয়েদের মত সাজগোজ ও অংগভঙ্গি করতে স্বাভাবিক বোধ করে।
                    *শরীরে নানাবিধ হরমনের ঘাটতি দেখা দেয়।
                    *বীর্য পাত হয় না,হলেও ১/২ ফোঁটা দেখা দেয়।
                    *যৌন উত্তেজনা থাকেনা বললেই চলে।

#মানসিক লক্ষনঃ
                   *হস্তমৈথুনের পরে রোগী অপরাধ বোধে ভুগতে থাকে,বার বার এমনটি হলে মানসিক                              হীনমন্যতার ফলে এমনটি হতে পারে।
                   *নারীর প্রতি ভয়ের  কারনে বা মনের দুর্বলতায় ধ্বজভঙ্গ হয়েছে,এমন ভাবনা দীর্ঘ দিন                            ধরে ভাবলে এমনটি হতে পারে।
                   *নারী সন্তুষ্টের ভিতী থেকেও এমনটি হয়।

#দৈহিক লক্ষনঃ
                   *বেশি বেশি হস্তমৈথুনের কারনে বেশি বীর্যপাতের জন্য এমনটি হতে পারে।
                   *কৃত্রিম বীর্যপাতে ক্ষয় হবার জন্য।
                   *পুস্টিকর খাদ্যের অভাবে শরীরের ক্ষয় পুরন না হলে শারীরিক অক্ষমতা হয়।
                   *জটিল বা যেকোন যৌন ব্যাধিতে ভুগলে এমনটি হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
                   *বেশি রাত্রী জাগা,নেশা পান,নানা রকম অনিয়মের জন্য উত্থান জনিত সমস্যা হয়,ফলে                         লিঙ্গ উত্থান মজবুত হয় না,আর এ অবস্থা দীর্ঘ দিন চলতে থাকলে ধ্বজভঙ্গ হয়।

চিকিৎসাঃ
১।শারীরিক দুর্বলতার জন্য CALCIUM  CARBONET জাতীয় ঔষধ খাওয়া যায়।
যেমন____TAB__a-cal-500mg,calbo-500mg.
মাত্রা____প্রত্যহ ০+০+১ করে ৬মাস খাবে।

২।শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য  ANTIOXIDENT  জাতীয় ঔষধ খাওয়া যায়।
যেমন____TAB__rex,antox,renbo.
মাত্রা____প্রত্যহ ০+০+১ করে ২মাস খাবে।

৩।দ্রুত বীর্যপাত রোধ বা মনের ভয় ভিতী দূর করার জন্য CLOMIPRAMINE HCL জাতীয় ঔষধ ভালো কাজ করে।
যেমন____TAB__anafranil-25mg,timex-25mg.
মাত্রা____প্রত্যহ ০+০+১ করে ২মাস খাবে।তবে ধীরে ধীরে মাত্রা বাড়ানো যাবে।

৪।পেটে গ্যাস হলে ESOMEPRAZOL জাতীয় ঔষধ খাওয়া যায়।
যেমন____TAB__nexam-20/40mg,esotid-20/40mg.
মাত্রা____প্রত্যহ ১+০+১ করে ২মাস আহারের ২০মিনিট আগে খাবে।

৫।হরমনের ঘাটতি থাকলে TESTOSTERONE জাতীয় ঔষধ ভালো কাজ করে।
যেমন____CAP__andriol,sastanon.
মাত্রা____প্রত্যহ ০+০+১ করে ১/২মাস খাবে।

৬।মানসিক উত্তেজনা,অস্থিরতা,বা দুশ্চিন্তা থাকলে NORTRIPTYLINE & FLUPENAZIN  জাতীয় ঔষধ খাওয়া যায়।
যেমন____TAB__norzin,moodon,norflu.
মাত্রা____প্রত্যহ ০+০+১ করে ১ মাস খাবে।

পথ্যঃ
         #বেশিবেশি পুস্টিকর খাবার খাবে।
         #প্রোটিন জাতীয় খাদ্য,মাছ,মাংস,দুধ,ডিম খাবে।
         #মানসিক ভাবে চাঙ্গা থাকবে।
         #যৌন চিন্তা মাথা থেকে দূরে রাখবে।
         #একাধীক নারীর সঙ্গ থেকে দূরে থাকবে।
         #কোন প্রকার যৌন রোগ হতে সতর্ক থাকতে হবে।

                  ***ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চললে এ সর্বনাশা রোগ থেকে দূরে থাকা যায়***

ধ্বজভঙ্গ কোন সাধারন রোগ নয়।এ রোগ থেকে মুক্তি পেতে একজন ভালো যৌন বিশেষজ্ঞের সরনাপন্ন হবে।তিনি বিভিন্ন পরীক্ষা-নীরীক্ষার মাধ্যমে ঔষধ দিবেন।

মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

সৃতিশক্তি বাড়ানোর কার্যকারী উপায়


                   হাস/মুরগীর  ডিম খেলে বেশী পরিমানে সৃতিশক্তি বাড়ে।এটি খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।সকালের নাস্তায় যাদের নিয়মিত ডিম খাওয়ার অভ্যাস আছে,তারা স্বাভাবিক ভাবেই এই ফয়দাটুকু পায়।
উন্নতদেশ গুলো সকালের নাস্তায় থাকে ডিম,দুধ,পাউরুটু বা কমলালেবু।

দিনের প্রথম আহারে ডিম খাওয়া স্বাস্থ্য সম্মত ও শরীরের জন্য খুবই উপোকারী।

ডিমেরর কোলিন মস্তিস্ককে শানিত করে।এটি ভিটামিন বি জাতীয় একটি রাসায়নিক এবং অনেক সময় ভিটানিন বি কমপ্লেক্স এর অন্তর্ভুক্ত হিসাবে দেখান হয়।
তবে শুধুমাত্র ভিটামিন বি দিয়ে কোলিন এর ঘাটতি পুরোন করা যায় না।
কোলিন মস্তিস্ক সহ স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যক্রম পরিচালনা এবং সৃতিশক্তির বিকাশ লাভ ও এটি সতেজ রাখার জন্য অতি প্রয়োজনীয় উপাদান।
পর্যাপ্ত কোলিনের উপস্থিতিতে চিন্তাশক্তি প্রখর ও গতিশীল হয়।তাছাড়া স্নায়ুর পরিবহন,সৃতি ধরে রাখা ও কোন জিনিষ দেখে খুবই সহজেই চিনতে পারা যায়।

                           কোলিনে ভরপুর শিশুরা খুব সহজে পড়াশোনা মনে রাখতে বা মুখস্ত করতে পারে।এবং ওদের বৃদ্ধ বয়সেও মস্তিস্কের কার্যক্রম অনেকটা অপরিবর্তনীয় থাকে।ওদের সৃতিশক্তি খুব এরকটা ফিকে হয়ে যায় না।

                          গর্ভবতী মায়েদের ডীম,দুধ ও অন্যান্ন খাবারের মাধ্যমে প্রচুর কোলিন গ্রহন করা উচিত।তাতে গর্ভস্থ শিশুর মস্তিস্ক গঠন সুন্দর ও নিখুঁত হয়।এবং তাদের সৃতিশক্তি খুবই ধারালো আর তারা প্রত্যুৎপন্নমতি সম্পন্ন হয়ে থাকে।

                           শিশুর কোলিন গ্রহনের আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হচ্ছে মায়ের বুকের দুধ খাওয়া।মায়ের বুকের দুধে কোলিনের পরিমান সবচেয়ে বেশি থাকে।

ডিমের কুসুমে প্রচুর পরিমান কোলিন থাকে।আর আমাদের দেশে ডিম খুবই সহজলভ্য হয়ায়,আমরা কোলিনের চাহিদা খুব ভালোভাবেই পুরন করতে পারি।

সুতরাং ডিমের মাধ্যমে মহামুল্যবান কোলিন খুব সহজেই পেতে পারি।
তাছাড়া কোলিনকে মেমোরী পিল বলা হয়।

                                                                       >>>> সংগ্রহ

গলা ব্যথা নিরাময়ে চা


                         শীত ঋতুতে গলা ব্যথা অনেকেরই সাধারন সমস্যা।এ সময় প্রায় প্রতিটি পরিবারের সদস্যরা ঠান্ডাজনিত গলা ব্যাথায় আক্রান্ত হয়।
গলা ব্যাথা সমস্যায় আক্রন্ত ব্যক্তিকে কয়েকদিনের জন্য দুর্ভোগ ও বিড়াম্বনা পোহাতে হয়।
গলা ব্যাথায় ঔষধের পাশাপাশি গরম চা খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
এটি বেশ কার্যকারী।
ঠান্ডাজনিত গলা ব্যাথার জন্য চা তৈরীর নিয়মাবলী অনুসরন করতে পারেন...............

প্রয়োজনীয় উপকরনঃ
             @   দুইটি লেবু গোল গোল টুকরো করে চার ভাগ করে নিন।
             @ এবার ২/৩ টুকরো আদা পয়সার মত পাতলা ও গোল করে কেটে নিন।
             @ পছন্দমত পরিমানে মধু নিন।

প্রস্তত প্রণালীঃ
                        ছোট কাচের কৌটা বা ঢাকনাআলা পাত্রে লেবু ও আদার টুকরো রাখুন।এবার মধু ঢালুন,যতক্ষন পর্যন্ত লেবু ও আদার টুকরো মধুতে পরোপুরি ডুবে না যায়।
এবার পাত্রের মুখ বন্ধ করে ফ্রিজের নরমাল ডেস্কে রেখে দিন।কয়েক ঘন্টা পর দেখবেন মধু জেলীর মত হয়ে গেছে।
এবার এক কাপ গরম পানিতে ১চা চামচ মিশিয়ে তা পান করুন।
এতে ঠান্ডা জনিত গলা ব্যথা থাকলে,তা দূর হবে।
তাছাড়া স্বরভাঙা থাকলেও,তা সেরে যাবে।
এভাবে তৈরী আদা,লেবু,মধুর মিক্সার ফ্রীজে ২/৩ মাস রাখতে পারবেন।
                       তাই পরিবারের সবাই মিলে  এ চা পান করুন এবং প্রাকৃতিক উপায়ে সুস্থ্য থাকুন।

                                                                                                       সূত্র>>স্বাস্থ্য ডেক্স।

সোমবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

চোখ উঠা (CONJUNCTIVITIS


                 চোখ উঠা,আমাদের দেশের জন্য খুবই পরিচিত।এ রোগটি অত্যন্ত ছোয়াছে।এমনকি মহামারী আকারেও দেখা দেতে পারে।
চোখে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের আক্রমনের জন্য এ রোগ হয়।

লক্ষনঃ
            #চোখ খচখচ করে।যন্ত্রনাও হতে পারে।
            #চোখ লাল হয়ে রক্তবর্ণ হয়।
            #চোখ দিয়ে পানি ঝড়তে থাকে।
            #চোখ ফুলে যেতে পারে,আলো সহ্য করতে কস্ট হয়।
            #চোখে পিচুটি জমা হয়।এবং তা খুবই দ্রুত।

চিকিৎসাঃ
১।চোখে ব্যাবহারের জন্য CHLORAMPHENICOL  জাতীয় ঔষধ।
যেমন___DROP___opsophenicol,a-phenicol.
মাত্রা___দিনে ২/৩ ফোটা করে ৩/৪ বার চোখে ব্যবহার করতে হবে।
                 অথবা,
                     ড্রোপ ব্যবহারে ঝামেলা হলে মলম আকারে ব্যবহার করা যেতে পারে।
যেমন___OINT__a-phenicol,aristophen.
মাত্রা___দিনে ৩/৪ বার চোখে ব্যবহার করতে হবে।

২।চোখে ব্যাথা থাকলে  PARACETAMOL যুক্ত ঔষধ খাওয়া যায়।
যেমন___TAB__napa-500mg,ace-500mg,fast-500mg.
মাত্রা___প্রত্যহ ১+১+১ করে আহারের পর ৩ দিন সেব্য।
                or      SYP__napa,ace,fast
মাত্রা___প্রত্যহ ১/২চা চামচ করে আহারের পর ৩ দিন সেব্য।

৩।চোখে চুলকানি থাকলে  CETRIZINE HCL  যুক্ত ঔষধ খাওয়া যায়।
যেমন___TAB__alatrol,citizin.
মাত্রা___প্রত্যহ ১+0+১ করে আহারের পর ৫ দিন সেব্য।
                 or      SYP__alatrol,citizin.
মাত্রা___প্রত্যহ ১/২চা চামচ করে আহারের পর ৩ দিন সেব্য।

করনীয়ঃ
             #চোখের পিচুটি বা পানি পরিস্কারের জন্য পরিস্কার কাপড় ব্যবহার করবে।
            #যদিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে এমন প্রতিষেধক তৈরী হয়নি, কিন্ত ভাইরাসের উপস্থিতিতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য ঔষধ ব্যবহার করা উচিৎ।

পথ্যঃ
           #স্বাভাবিক সব রকম খাবারই খাবে।
           # ঠান্ডা খাবার বা পানীয় পরিহার করা উচিৎ।
          #বাইরে বের হলে বা রৌদ্রে গেলে চোখে রঙ্গিন চশমা ব্যবহার করতে হবে।

চোখ নিয়ে কোনপ্রকার গাফলতি নয়।আরোগ্য হতে সময় লাগলে,দেরী না করে নিকটস্থ চিকিৎসা কেন্দ্রে যাবে।

বৃহস্পতিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৬

গালে/মুখে ঘা (STOMATITS)


                   মুখে ঘা বা গালে ঘা হবার প্রধান কারন হল অপরিস্কার মুখ বা পেটের অসুখ কিংবা ভিটামিনের অভাব।
তাছাড়া সকল সময় গরম খাদ্য বা পানীয় গ্রহন করলে,মুখে ঘা হতে পারে।আমাদের দেশেও প্রচুর মুখে ঘা এর রোগী আছে।এটি প্রধানত শীত কালে বেশী হয়।
গালে/মুখে ঘা হবার জন্য অত্যাধিক ধুমপান করাও অন্যতম কারন।

লক্ষনঃ
           #যে কোন ঝাল বা মসলা যুক্ত খাবার খেলে মুখে ধরে।
          #জিহ্বার উপর,ঠোটের ভেতরের দিকে,ছিলে যাবার মত ঘা হয়।
          #খাদ্যের আসল স্বাদ পাওয়া যায় না।
          #জিহ্বা বা মুখের মধ্যে ব্যাথা হয়।এই ব্যাথা দাঁত বা মাড়িতে হতে পারে।
          #মুখ সব সময় ভেজা বা রসযুক্ত থাকে।

চিকিৎসাঃ
১।ভিটামিন রিবোফ্লাভিন এর ঘাটতির জন্য,মুখে ঘা বেশি হয়।তাই ঘাটতি মেটাতে RIBOFLAVIN যুক্ত ঔষধ খাওয়া যায়।
যেমন___TAB__riboson,riboflavin.
মাত্রা___প্রত্যহ ১+১+১ করে ৫ দিন সেব্য।

২।সঙ্গে VITAMIN B COMPLEX যুক্ত ঔষধ খেলে উপকার হয়।
যেমন___TAB_v-plex,opsovit
            or       CAP_b-50 fort
             or         SYP_v-plex
মাত্রা___প্রত্যহ ১+১+১ করে ১৫ দিন সেব্য।

৩।যদি এলারজী থাকে CETIRIZINE HCL যুক্ত ঔষধ খাওয়া যায়।
যেমন___TAB_alatrol,cetizin.
                 or    SYP_alatrol,cetizin.
মাত্রা___প্রত্যহ 0+0+১ করে ৫ দিন সেব্য।
                অথবা ১/২ চা চামচ করে প্রত্যহ ১/২ বার ৫ দিন।

৪।গালে বা মুখে ব্যাথা থাকলে PARACETAMOL  যুক্ত ঔষধ খাওয়া যায়।
যেমন___TAB_napa-500mg,ace-500mg.
                   or    SYP_napa,ace.
মাত্রা___প্রত্যহ ১+0+১ করে ব্যাথা না থাকা পর্যন্ত সেব্য।
                অথবা ১/২ চা চামচ করে প্রত্যহ ১/২ বার ১/২ দিন সেব্য।

৫।মুখের অভ্যন্তরে ইনফেকশন বা শরীরে  জ্বর থাকলে AZITHROMYCIN  যুক্ত ঔষধ খাওয়া যায়।
যেমন___TAB_zimax-250/500mg,azin-250/500mg.
মাত্রা___প্রত্যহ ০+০+১ করে ৫ দিন।

পথ্যঃ
         #বেশি ঝাল বা মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করবে।
         #খুব বেশি ঠান্ডা বা বেশি গরম খাবার খাবে না।
         #প্রতিদিন শাকসব্জী খাওয়া উচিৎ।
         #প্রত্যহ খাবার পর দাঁত ব্রাশ করবে।
         #মুখের অভ্যন্তর ও জিহ্বা পরিস্কার রাখা উচিৎ।

***ধুমপানের অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।

 গালে ঘা কে সাধারন ব্যধি ভাবলে ভুল করবে।কেননা তামাক বা ধুমপায়ীদের জন্য এটি খুব খারাপ হতে পারে।তাই দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবে।

মলদ্বারে ফাটল/ভগন্দর/ফিস্টুলা (ANAL FISTULA)


               ফিস্টুলা বা ভগন্দর এক বিরক্তিকর রোগ।আমাদের দেশে হরহামেশায় এই রোগ হয়।রোগটি অনেকটাই স্বনিয়ন্ত্রিত।কেননা কোস্টকাঠিন্যের জন্য অনেকাংশে আমরা নিজেরায় দায়ী।আর এ রোগটির জন্য কোস্টকাঠিন্য বেশিরভাগ দায়ী।
আমাদের মলদ্বারের প্রাচীর খুবই পুরু ও শক্ত।অনেক সময় আমাদের  শক্ত পায়খানা হয়,আবার খাদ্যের সাথে খাওয়া হাড়ের কুচি,ও মাছের কাটা পায়খানার সাথে বের হবার সময় মলদ্বারের প্রাচীরে চিড় ধরায় বা ঘর্ষণের জন্য মলদ্বারের প্রাচীর ছিলে যেয়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়।কেননা হাড় বা মাছের কাটা পাকস্থলীতে পরিপাক হয় না। এই ক্ষত আপনাআপনি সেরে যায়।
যদি কোন ভাবে এই ক্ষতে জীবানু দ্বারা ফোঁড়া বা ঘায়ের সৃষ্টি হয়ে ইনফেকশন হয়। পরে ক্ষতস্থান থেকে পুজ রক্ত নিচের দিকে নালিপথ তৈরী করে বাইরে বের হয়ে আসে।এই নালীপথের মুখ অত্যন্ত ছোট হয়।
মলদ্বারের এই ইনফেকশনই ফিস্টুলা বা বাংলায় ভগন্দর।
শরীরে তরলের ঘাটতি থেকে যে কোস্টকাঠিন্য হয়,তার থেকেই এই রোগের উৎপত্তি।
তাই কোস্টকাঠিন্য প্রতিরোধ করতে পারলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়া অনেকটাই কমে যাবে।
এজন্য প্রচুর তরল খাবার বা পানি পান ও মল স্বাভাবিক রাখতে হবে।

লক্ষনঃ
           #মলদ্বারে ভার অনুভুত হয়।
          #মলত্যাগ করার পর ঐ স্থানে শুলায়।
          #মলত্যাগের বেগ আসলে,তীব্র তাড়না হয়।
          #আক্রান্ত স্থান ফুলে যায়,পায়খানার সাথে পুজ রক্ত বা তাজা রক্ত আসতে পারে।
          #আক্রান্ত স্থান ব্যাথা হওয়ায় বসতে অসুবিধা হয়,বা রোগি খুবই অসস্তি বোধ করে।
          #দিনের পর দিন ভুগতে হয়।
          #মলের বিষাক্ত জীবানু দ্বারা ক্ষতস্থান বার বার আক্রান্ত হয়।তাই আরোগ্য হতে বেশ সময় লাগে।

চিকিৎসাঃ
১।মল নরম রাখার জন্য LACTULOSE  জাতীয় ঔষধ খাওয়া যায়।
যেমন___SOLU__avolac,acilac.
মাত্রা___প্রত্যহ ৩/৪ চা চামচ করে দিনে ২বার সেব্য।পুরোপুরি অরোগ্য না হওয়া পর্যন্ত।

২।ইনফেকশন দূর করার জন্য CEFIXIME জাতীয় ঔষধ খুবই ভালো কাজ করে।
যেমন___CAP__fix-a-200mg,cef-3-200mg.
মাত্রা___প্রত্যহ ১+০+১ করে ১৪ দিন সেব্য।

৩।উপরে বর্ণিত ঔষধের সাথে মলদ্বারের ভিতর ব্যাবহারের জন্য  CINCHOCAINE যুক্ত ঔষধ খুবই ভালো কাজ করে।
যেমন___OINT__ANUSTAT
মাত্রা___মলদ্বারের ভিতরে দিনে ২/৩ বার ব্যাবহার করবে।
*** সব থেকে ভালোহয়,মলত্যাগ করার পরপরই ব্যাবহার করলে।

৪।পেটের গ্যাস দূর করার জন্য ESOMEPRAZOL জাতীয় ঔষধ খাওয়া যায়।
যেমন___CAP__maxima-20/40mg,esotid-20/40mg.
মাত্রা___প্রত্যহ ১+০+১ করে ৩০ দিন সেব্য।

৫।আক্রান্ত স্থানে বেশি ব্যাথা হলে DICLOFENAC SODIUM জাতীয় ঔষধ খাওয়া যায়।
যেমন___TAB__voltalin-sr-50/100mg,clofenac-sr-50/100mg.
মাত্রা___প্রত্যহ ১+০+১ করে ব্যাথা না যাওয়া পর্যন্ত।

পথ্য/করনীয়ঃ
                      #প্রচুর পানি ও নরম খাবার খাবে।
                      #নিয়মিত কোষ্ঠ পরিস্কার রাখতে হবে।
                     #মাংসের সাথে হাড় বা মাছের কাটা চিবলে,গেলা ঠীক হবে না।
                     #মল প্রতিনিয়ত নরম রাখবে।
                    #উষ্ণ গরম পানির ছেক দিলে ভালো আরাম পাবে।

*** একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দ্বারা অস্ত্রোপাচার করালে পুরোপুরি আরোগ্য লাভ করা যায়।

এ রোগের ঔষধ পুরোপুরি খেতে হয়,নইলে একবার সেরে যাবার পরও পুনরায় হবার সম্ভাবনা থাকে।

বুধবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৬

খোসপাঁচড়া ও চুলকানি (SCABIAE)


                চুলকানি বা খোসপাঁচড়া খুবই সংক্রামক রোগ।অত্যন্ত ছোয়াচে এবং স্পর্শকাতর এই রোগকে পারিবারিক রোগও বলা হয়।এরোগটি পরিবারের একজনের হলে,অন্য সদস্যদের খুব তাড়াতাড়ি হয়।
বিশেষ করে অপরিস্কার,নোংরা পরিবেশে এই রোগ বেশি ছড়ায়।
এই রোগে সারা শরীর চুলকায়,এমনকি আক্রান্ত স্থানে পুজও হতে পারে।
ছোট ছেলেমেয়েরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়।মহিলাদের ক্ষেত্রে স্তনের বোটায় এবং পুরুষের ক্ষেত্রে লিঙ্গ ও অন্ডকোষে বেশি দেখা দিতে পারে।


লক্ষনঃ
           #আক্রান্ত স্থানে চুলকানির তীব্রতা বাড়ে।চুলকালে আরামবোধ হয়।
           #শুরুতে এ রোগ বগলের নিচে,হাটুর পাশে,হাতের ভাজে,কিংবা হাত পায়ের আঙ্গুলের ফাকে ফুস্কুরির মত জল ফোটের সৃষ্টি করে আর প্রচন্ড চুলকায়।
           #নাভির চারিপাশ দিয়েও আক্রমন করতে পারে।
           #চুলকানির জায়গা লাল হয়ে যায়,এবং পরে পুজ হয়।

চিকিৎসাঃ
১।পুজ হলে CLOXACILLIN  যুক্ত ঔষধ ভালো কাজ করে।
যেমন___CAP__ a-clox-500mg,clobex-500mg
মাত্রা___প্রত্যহ ১+১+১+১ করে অর্থাৎ ৬ঘন্টা পরপর ৭দিন সেব্য।

২।সারা শরীরে ব্যবহারের জন্য PERMETHRIN  যুক্ত ঔষধ ভালো কাজ করে।
যেমন___CREAM__permin,scabex
মাত্রা___প্রত্যহ গোছলের পর গলার নিচ থেকে শুরু করে পা পর্যন্ত সমস্ত শরীরে মাখতে হবে।এভাবে ৩ দিন ব্যবহার করবে।

৩।শরীরের চুলকানি বন্ধের জন্য CHLORPHENIRAMIN MALEAT  যুক্ত ঔষধ ।
 যেমন___TAB_histacin,histalex
মাত্রা___প্রত্যহ ১+০+১ করে ৭দিন সেব্য।

পথ্যঃ
        #যে সব খাবারে এলারজী,তা পরিহার করবে।
       
                #পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকবে।
                #নিজের রোগটি অন্যকে যেন সংক্রমিত করতে না পারে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
                #নিজের পোশাক নিজে পরিধান করবে।অন্যেরটা নেওয়া বা নিজেরটা দেওয়া পরিহার                             করবে।
               #আক্রান্ত স্থান নখ দিয়ে খোচাবে না।এতে ইনফেকশন হবার সম্ভবনা থাকে।



                                খোসপাঁচড়া বা চুলকানি বাড়তে থাকলে দ্রুত নিকটস্থ্ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাবে।

ভিটামিন ই/VITAMIN E

প্রাথমিক ধারনাঃ ভিটামিন ই ট্যাবলেটে আছে সিনথেটিক ভিটামিন ই। এর সম্পূর্ণ কার্যকারিতা এখনও অজানা।তবে একথা প্রমানিত যে,ভিটামিন ই এন্টিঅক্সিড...